sohossrodhara_01

কোথায়, কখন, কিভাবে - ২

সহস্রধারা ঝর্ণা ২

কোথায় ?

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত সীতাকুন্ড উপজেলার ছোট দারগার হাট নামক স্থানে এই ঝর্ণার অবস্থান। তাই এই ঝর্ণাকে কেউ কেউ ছোট দারগার হাট ঝর্ণা নামেও চেনে। এই ঝর্ণায় পৌছাতে হলে আপনাকে কৃত্রিমভাবে বাঁধ দিয়ে তৈরী ১টি লেক পার হতে হবে। অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত এ লেকটির নাম সহস্রধারা লেক।

কখন ?

এ ঝর্ণায় যাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে যখন প্রচুর বৃষ্টি হয় তখন এ ঝর্ণা তার সৌন্দর্যের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করে।

কিভাবে ?

দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম গামী যে কোন বাসে চড়ে চলে আসতে পারেন মিরসরাই। বাসের ড্রাইভার বা কন্ডাক্টরকে বলে রাখবেন যেন আপনাকে মিরসরাইয়ের নয়দুয়ার বাজার এলাকায় নামিয়ে দেয়। এছাড়া আপনি গুগল ম্যাপ দেখেও বাজার এলাকায় নেমে যেতে পারবেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম গামী ট্রেনে করেও আপনি চট্টগ্রাম নেমে বাস বা রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে নয়দুয়ার বাজার চলে আসতে পারেন। তবে খরচ বাঁচাতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রাতের মেইল ট্রেনে করে পরদিন সকালে সীতাকুন্ড নেমে লোকাল লেগুনায় উঠে নয়দুয়ার বাজার নামতে পারবেন।

দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম গামী যে কোন বাসে চড়ে সীতাকুন্ডের ছোট দারগার হাট নামক স্থানে নেমে পড়ুন। বাসের ড্রাইভার বা কন্ডাক্টর কে আগে থেকে বলে রাখবেন যেন আপনাকে ঠিক জায়গায় নামিয়ে দেয়, কিংবা গুগল ম্যাপ দেখে ঠিক স্থানে এসে বাস থামিয়ে আপনি নিজেই নেমে যেতে পারবেন। এছাড়াও, আপনি চাইলে রেল পথেও আসতে পারেন। চট্টগ্রামগামী ট্রেনে উঠে চট্টগ্রাম নেমে লোকাল বাস অথবা সিএনজি ভাড়া করে ছোট দারগার হাট আসতে পারেন। আরেকটি উপায় হচ্ছে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের মেইল ট্রেন ধরে সরাসরি সীতাকুন্ড নামতে পারেন। তারপর সীতাকুন্ড থেকে লোকাল লেগুনা বা সিএনজি নিয়ে ছোট দারগার হাট। তবে মেইল ট্রেন সাশ্রয়ী হলেও ট্রেনযাত্রাটি অনেকটাই কম আরামদায়ক। ছোট দারগার হাট থেকে লেক পর্যন্ত সিএনজি যায়, জনপ্রতি ২০ টাকা। সিএনজি আপনাকে লেক থেকে ১৫-২০ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে নামিয়ে দেবে। এরপর আর রাস্তা গাড়ি চলাচলের উপযোগী না, তাই বাকি পথ হেঁটেই যেতে হবে। পুরো ট্রেইলটাই সমতলে হওয়ায় আপনাকে কোন পাহাড়ে উঠতে হবে না। আপনি চাইলে পুরো রাস্তা হেঁটেও আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে সময় লাগবে মোটামুটি ৪৫-৫০ মিনিট।

 

গাড়ি থেকে নেমে প্রায় ১৫-২০ মিনিট হাঁটার পর বাঁধ প্রকল্পের ১টি গেট দেখতে পাবেন। গেট দিয়ে ঢুকেই হাতের বামে পড়বে বুদবুদকুন্ড। এটি একটি পরিত্যক্ত মন্দির যার নিচে পানি জমে থাকে এবং সেখান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উদগীরন হয় বলে পানিতে বুদবুদ উঠতে দেখা যায়। আর গেট দিয়ে ঢুকে সামনে তাকালেই দেখবেন অনেকগুলো সিঁড়ি উঠে গিয়েছে। সিঁড়ি বেয়ে উপরের উঠলেই দেখতে পাবেন অপার সৌন্দর্যের সহস্রধারা লেক। আর হাতের ডানে দেখতে পাবেন বাঁধের দৃষ্টিনন্দন সুইস গেট। সময় কাটানো ও ছবি তোলার জন্য লেকের পাড় ও সুইস গেট খুব সুন্দর একটি জায়গা।

লেকের পাড় থেকেই দেখবেন ঝর্ণা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য স্পীড বোট আছে। ভাড়া জনপ্রতি ৬০ টাকা যাওয়া ও আসা। নৌকা আপনাকে ঝর্ণার ঠিক পাশেই নামিয়ে দেবে। যেতে সময় লাগবে ১-২ মিনিট। আপনি ঝর্ণায় যতক্ষণ খুশি থাকতে পারেন। আপনি যদি একটু বেলা করে আসেন তবে নৌকা থেকে নামার আগে জিজ্ঞেস করে নিবেন নৌকার শেষ ট্রিপ কয়টায়। সে অনুযায়ী আপনি ঝর্ণায় সময় কাটাতে পারবেন। এছাড়াও নৌকায় ওঠা ও নামার জায়গাতে নৌকার মাঝির ফোন নাম্বার লিখে দেওয়া আছে, যে কোন প্রয়োজনে চাইলে ফোন দিতে পারবেন।

নৌকায় করে ফিরে আসার পর ঘাটে নেমে আপনি যে পথে এসেছেন সে পথেই আপনাকে আবার ফিরতে হবে। ছোট দারগার হাঁটে এসে চাইলে খাবার কিংবা হালকা নাশতা করে নিয়ে চলে যেতে পারেন আপনার পরের গন্তব্যে। তবে আপনি যদি ঢাকা ফিরতে চান সেক্ষেত্রে জনপ্রতি ২৫ টাকা দিয়ে সীতাকুন্ড বাজারে আসতে হবে। বাজারের পাশেই বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার যে কোন বাসের টিকেট কেটে উঠে পড়ুন। আর রাতে থাকতে চাইলে সীতাকুন্ড বাজার এলাকায় অবস্থিত কিছু মাঝারি মানের হোটেলে আপনার থাকার ব্যবস্থা করে নিতে পারেন।

Copy link
Powered by Social Snap