napittachora

কোথায়, কখন, কিভাবে - ১

নাপিত্তাছড়া

কোথায় ?

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত মিরসরাই পাহাড়ি রেঞ্জের অনেকগুলো ট্রেইলের ভিতর ১টি হল নাপিত্তাছড়া ট্রেইল। এই ট্রেইলের অবস্থান মিরসরাই উপজেলার নয়দুয়ার বাজার এলাকায়। ঝিরিপথের এই ট্রেইল ধরে এগিয়ে গেলে একে একে দেখা মিলবে মোট ৪টি ঝর্ণার। মূলত এই ট্রেইলের শেষ ঝর্ণাটি পর্যটকদের কাছে বেশি পরিচিত নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা হিসেবে।

কখন ?

নাপিত্তাছড়া ট্রেইলে যাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। সে সময় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয় বলে ট্রেইলের ঝর্ণাগুলো থাকে পূর্ণ যৌবনা। তবে সরকারি ছুটির দিন গুলো এড়িয়ে যেতে পারলে ঝর্ণার সর্বোচ্চ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন অনেকটাই নিরিবিলি পরিবেশে।

কিভাবে ?

দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম গামী যে কোন বাসে চড়ে চলে আসতে পারেন মিরসরাই। বাসের ড্রাইভার বা কন্ডাক্টরকে বলে রাখবেন যেন আপনাকে মিরসরাইয়ের নয়দুয়ার বাজার এলাকায় নামিয়ে দেয়। এছাড়া আপনি গুগল ম্যাপ দেখেও বাজার এলাকায় নেমে যেতে পারবেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম গামী ট্রেনে করেও আপনি চট্টগ্রাম নেমে বাস বা রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে নয়দুয়ার বাজার চলে আসতে পারেন। তবে খরচ বাঁচাতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রাতের মেইল ট্রেনে করে পরদিন সকালে সীতাকুন্ড নেমে লোকাল লেগুনায় উঠে নয়দুয়ার বাজার নামতে পারবেন।

নয়দুয়ার বাজারে নেমে লোকাল কাউকে গাইড হিসেবে নিয়ে নেবেন। গাইডের খরচ পড়বে ২০০-৫০০ টাকা। তবে অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন। আর আপনার সাথে যদি এমন কেউ থাকে যার কাছে ট্রেইলটি আগে থেকেই পরিচিত সেক্ষেত্রে গাইড না নিলেও চলবে। বাজারের মোড়েই বাঁশের লাঠি ভাড়া দেয় এমন কয়েকজনকে দেখবেন। চাইলে সেগুলো পুরো টাকা দিয়ে ভাড়া নিতে পারেন, যেটি পাথুরে ঝিরিতে চলার পথে সাহায্য করবে আপনাকে। ট্রেইল থেকে ফেরার পর লাঠি ফেরত দিলে অর্ধেক টাকা ফেরত পাবেন।

নয়দুয়ার বাজারের মোড় থেকে ১৫-২০ মিনিট গ্রামের ভিতর দিয়ে হেঁটে গেলেই ঝিরিপথের দেখা মিলবে। মাঝে হেঁটে পাড় হতে হবে ১টি রেলক্রসিং। ঝিরিপথ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত কয়েকটি হোটেল ও দোকান পড়বে। সেখানে চাইলে আপনারা সকালের নাস্তা সেড়ে নিতে পারেন এবং যদি এসব হোটেলের কোন একটিতে ফেরার পর দুপুরের খাবার খেতে চান তবে যাওয়ার সময় অবশ্যই খাবারের অর্ডার দিয়ে যেতে হবে। দোকানভেদে খাবারের দাম নিবে ১০০-১২০ টাকা। তবে যাওয়ার সময় সাথে করে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পানি নিয়ে যেতে ভুলবেন না, আর সাথে কলা, বিস্কুট, কেক এ ধরণের কিছু শুকনো খাবার কিনে নিয়ে যেতে পারেন চাইলে আশেপাশের দোকান থেকে। এছাড়া কোন হোটেল যদি আপনার গাইডের পরিচিত হয় সেক্ষেত্রে আপনারা আপনাদের কাঁধের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র সেই হোটেলে রেখে যেতে পারেন চাইলে।


napittachora_portrait

ঝিরিপথ ধরে কিছক্ষণ হেঁটে গেলেই প্রথম ঝর্ণার দেখা পাবেন। এই ঝর্ণার নাম টিপরা ঝর্ণা। একে ঝর্ণা ডাকা হলেও মূলত এটি একটি ক্যাসকেড। এর বাম পাশ দিয়ে মাটির রাস্তা ধরে একটু উপরে উঠলেই দেখতে পাবেন ট্রেইলের দ্বিতীয় ঝর্না, নাম কুপিকাটাখুম। এ ঝর্ণার ঠিক নিচে একটি গর্ত বা টানেলের মত আছে যেখানে আটকা পড়ে অনেক পর্যটকই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাই এই ঝর্ণার পানিতে না নামাটাই শ্রেয়।

কুপিকাটাখুমের পাশ দিয়ে ঝিরিপথ ধরে আবার কিছুক্ষণ হেঁটে গেলে একটি টিলা পড়বে। এই টিলায় উঠে দেখতে পাবেন রাস্তা বামে-ডানে দুদিকে চলে গেছে। আপনাকে বামের পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। আর ডানের রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে আপনি আবার পাহাড়ের নিচে নেমে যাবেন যে ঝিরিপথ ধরে এসেছিলেন সেখানে।

বামের রাস্তা ধরে কিছুদূর এগিয়ে গেলে দেখবেন একটি জায়গায় রাস্তা দুদিকে ভাগ হয়ে চলে গেছে। এক্ষেত্রে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বামের রাস্তা ধরে ২০-২৫ মিনিট হেঁটে গেলে দেখা মিলবে ট্রেইলের তৃতীয় ঝর্ণা বান্দরখুম এর। এখানে আপনারা চাইলে গোসল সেড়ে নিতে পারেন। আর ডানের রাস্তা ধরে কিছুক্ষণ হেঁটে গেলে পড়বে ট্রেইলের শেষ ঝর্ণা যার নাম মিঠাছড়ি ঝর্না বা বাঘবিয়ানি ঝর্ণা। এই ঝর্ণাটি ট্রেইলের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা বলে অনেকে একে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা নামে চেনেন।

ঝর্ণায় গা ভেজানো ও ছবি তোলা শেষ হলে ফিরতি পথ ধরতে হবে। আপনি চাইলে ঠিক যে পথে এসেছেন সেই পথেই ফিরতে পারেন অথবা টিলার মাথায় যেখানে রাস্তা ডানে-বামে দুভাগ হয়ে গিয়েছে সেখানে পৌছে ডানের রাস্তা ধরে নেমে যেতে পারেন। আপনি যে পথে এসেছিলেন সে পথের তুলনায় ডানের রাস্তা ধরে নেমে যাওয়াটা তুলনামূলক সহজ। ডানের রাস্তা ধরে ফিরলে বাজারে ফিরতে আপনার প্রায় ১ ঘন্টার মত লাগবে। আপনি চাইলে আসার সময়ও এ পথে আসতে পারেন তবে তা কিছুটা কষ্টসাধ্য এবং আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, এ পথে উঠা বা নামা কোন সময়ই আপনি প্রথম দুটি ঝর্ণার দেখা পাবেন না।

napittachora_portrait2


নয়দুয়ার বাজারে ফিরে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া সেড়ে নিতে পারেন। আপনি যদি সেদিনই চট্টগ্রাম ফিরতে চান তবে বাজারের মোড় থেকে লোকাল বাসে করে চট্টগ্রাম যেতে পারেন। আর যদি ঢাকা ফিরতে চান তবে আপনাকে মোড় থেকে লোকাল লেগুনা বা সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে সীতাকুন্ড আসতে হবে। লেগুনার ভাড়া পড়বে প্রতিজন ৩০-৩৫ টাকা। সীতাকুন্ড বাসস্ট্যান্ড এ নেমে ঢাকাগামী যে কোন বাসের টিকেট কেটে নিতে পারবেন। আধা ঘন্টা পরপরই সেখান থেকে বাস ছেড়ে যায়। আর যদি আপনি রাতে থাকতে চান তাহলেও আপনাকে সীতাকুন্ড আসতে হবে। নয়দুয়ার বাজার এ থাকার কোন ব্যবস্থা নেই তবে সীতাকুন্ড বাজারের আশেপাশে কিছু মাঝারি মানের থাকার ব্যবস্থা সম্পন্ন হোটেল আছে।

Copy link
Powered by Social Snap